Advertisement
Advertisement

Breaking News

সুচিত্রা মিত্র ও কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শতবর্ষে ‘কলাক্ষেত্রম’-এর শ্রদ্ধাঞ্জলী

'প্রেমে প্রাণে গানে গন্ধে' এবং 'রবি ঠাকুরের ভাঙা গানে নৃত্যের ছন্দে', দুই পর্বে জমে উঠল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

Suchitra Mitra, Kanika Banerjee birth centenary celebration
Published by: Sandipta Bhanja
  • Posted:February 24, 2025 2:00 pm
  • Updated:February 25, 2025 1:54 pm  

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি ভালোবাসার দিনে কলাক্ষেত্রম দুই কিংবদন্তি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্র ও কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শতবর্ষে উদযাপন করল ‘প্রেমে প্রাণে গানে গন্ধে।’ মধুসূদন মঞ্চের ফয়্যার-এ ফুলের আলপনায় একরাশ মুগ্ধতায় এগিয়ে এলাম দর্শক আসনে। সময়ানুবর্তিতা মেনে যথার্থ সময়েই দুই কিংবদন্তিকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করলেন ‘কলাক্ষেত্রম’-এর কর্ণধার ডঃ সুভাশীষ ও সুস্মিতা ভট্টাচার্য্য। পর্দা সরতেই মঞ্চ নৈপুন্যের নান্দনিকতায় দৃষ্টি, মন ও চিত্ত আকর্ষিত হল। মঞ্চে উপর থেকে ঝুলছে সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি একদিকে, অন্যদিকে নানা বর্ণের কাপড়ের ইকেবানা। নয়নাভিরাম মঞ্চ। মঞ্চ নৈপুন্যে অরিজিৎ রায়। অনুষ্ঠান দুটি পর্বে, ‘প্রেমে প্রাণে গানে গন্ধে’ এবং ‘রবি ঠাকুরের ভাঙা গানে নৃত্যের ছন্দে।’

রবিতীর্থ-র প্রাক্তনীদের সমবেত কন্ঠে ‘বাজে বাজে রম্য বীণা’ সঙ্গীত। মনোময় ভট্টাচার্য্যের কন্ঠে ‘ভালোবেসে সখী’ গানে নৃত্যরত সুভাশীষ ও সুস্মিতা ভট্টাচার্য্য এক সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিলেন। শ্রবণে ও দৃশ্যে যেন মায়াজাল সৃষ্টি হল। মনোময় ‘বঁধু মিছে রাগ’ গানের অভিব্যক্তিতে সুস্মিতার নাচ আন্দোলিত করল দর্শককে। ‘আমি তোমার প্রেমে হব’ গানটিতে চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত আবেগঘন পরিবেশ গড়ে তুললেন। সঙ্গে মার্জিত নৃত্য হিল্লোলে সুস্মিতা। ‘ওলো সই, ওলো সই’ দ্বৈত কন্ঠে নিবেদন করলেন চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত ও দীপাবলী দত্ত। সুন্দর প্রাণবন্ত এক ছবি আঁকলেন শ্রুতি পারফর্মিং ট্রুপের নৃত্য শিল্পীরা। পলি গুহর নৃত্য নিবেদনে ছিল অতুলনীয় আবেগ, আঁকুতি এবং মর্মস্পর্শী (আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি)। বাচিক শিল্পী প্রণতি ঠাকুরের কন্ঠে ‘সজনী গো- শাওন গগনে’ বহুদিন মনে থাকবে। নৃত্য পরিপাট্যে উর্মিলা সেনগুপ্ত সইকিয়া। আলোক রায় চৌধুরির কন্ঠে ‘আনমনা আনমনা’ ও ‘জাগরণে যায় বিভাবরী’ যথার্থ নাটকীয়তায় মন ভরিয়ে দেন।

Advertisement

সুভাশীষ ভট্টাচার্য্যের নৃত্যরসে ‘জাগরণে যায়’ পুলকিত হতে হয়, ভাব ও রসের সংমিশ্রণে রচনা হল নৃত্যভিভা। ‘সখী ওই বুঝি বাঁশি বাজে’ নৃত্যে সুস্মিতা ভট্টাচার্য্য। বিপ্লব মণ্ডলের তালবাদ্য অবশ্যই বাড়তি পাওনা। সুস্মিতার নৃত্য অভিব্যক্তি, তালের সঙ্গে গমন, নিমগ্নতা চিত্তাকর্ষক করে। গানটি সুরের ও তাল লয় কে বিলীন করে গীত হয়েছে। এখানে পরিত্রাতা হয়েছেন বিপ্লব মণ্ডল, অনুষঙ্গে দেবাশীষ সাহা (সিন্থেসাইজার), সঞ্জীবন আচার্য্য (পার্কাশন) এবং বাঁশিতে সৌম্যজ্যোতি ঘোষ। মনীষা মুরলী নায়ার সুন্দর সজীবতায় নিবেদন করলেন ‘যদি তারে নাই চিনি গো।’ মনোজ মুরলী নায়ার কন্ঠ মাদকতায় পরিবেশন করেন ‘হে নবীনা’, আচ্ছন্ন করল। মনোজ ও মনীষা দ্বৈত কন্ঠে সুখ শ্রাব্য করে তুললেন ‘রং লাগালে বনে বনে,’ সমবেত নৃত্য কলাক্ষেত্রম। ‘গানগুলি মোর শৈবাল’ ও ‘তৃষ্ণার শান্তি’ সমবেত নৃত্য গীত যথাযথ। সুরজিৎ রায়ের কন্ঠ সুধা মনে রাখার মতো। নিত্য নস্করের আলোক নকশা ছিল উপস্থিত শিল্পীদের সহায়ক। সঞ্চালনায় শুভদীপ চক্রবর্তী এবং মেঘনা নন্দী।

সদ্য পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত শিল্পীদের মঞ্চে অভিনন্দন জানালেন কলাক্ষেত্রম-এর পক্ষ থেকে সুভাশীষ ও সুস্মিতা ভট্টাচার্য্য। নৃত্যশিল্পী পদ্মশ্রী মমতা শঙ্কর, সরোদ শিল্পী পদ্মশ্রী তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার এবং ঢাকি সম্রাট পদ্মশ্রী গোকুল চন্দ্র দাশ প্রত্যেকেই এই সম্মাননায় অভিভূত। প্রত্যেকের বার্তায় ফুটে ওঠে নিজস্ব সংস্কৃতি দিয়ে ভালোবাসার আদান প্রদান বা ভালোরাখার প্রয়াস ও পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে চলার অঙ্গীকার। দ্বিতীয়পর্বে ‘রবি ঠাকুরের ভাঙা গানে নৃত্যের ছন্দে’ একটি গবেষণাধর্মী নৃত্য গীতি আলেখ্য। যন্ত্র ধৃত অনুষ্ঠান। অন্য গানের বিভিন্ন মাধুর্য্য নিয়ে রবি ঠাকুরের গানের রচনা। ‘বহে নিরন্তর,’ ‘সুখহীন নিশি দিন,’ ‘রূপ সাগরে ডুব’ ইত্যাদি গানের সমাহারে বিভিন্ন নৃত্যগোষ্ঠীর নৃত্য পরিবেশনা। উল্লেখযোগ্য পরিবেশনায় রাজা দত্ত এন্ড ট্রুপ, সুমিত বসু এন্ড ট্রুপ, ঊর্মিলা ভৌমিক এন্ড ট্রুপ সাবলীল নৃত্য ছন্দের স্বাক্ষর রাখে। যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের সাধুবাদ জানাই তাঁদের বিশেষ ভূমিকার জন্যে। ওঁদের সহযোগীতা অনুষ্ঠানটিকে বহুলাংশে সমৃদ্ধ করে তুলেছিল। অনুষ্ঠানের দৈর্ঘ্য আরও সংক্ষিপ্ত হলে মনে হয় দর্শকরা উপভোগ করতেন।

তথ্য: পাপিয়া চৌধুরী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
News Hub