Advertisement
Advertisement
Red Card

ট্রাম্পকেই ‘লালকার্ড’ ফুটবল বিশ্বের, তদন্তের মুখে ফিফার সর্বময় কর্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুরোধে ফোলারিনের বিরুদ্ধে লাল কার্ড তুলে নিয়েছিল ফিফা। এবার তদন্তের মুখে ফিফার সর্বময় কর্তা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৯, ২০২৬, ১৫:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৯, ২০২৬, ১৫:৫৮

options
link
ট্রাম্পকেই ‘লালকার্ড’ ফুটবল বিশ্বের, তদন্তের মুখে ফিফার সর্বময় কর্তা zoom
ট্রাম্পের অনুরোধে ফিফা তুলে নেয় মার্কিন ফুটবলারের লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞা।
Advertisement

‘হেডবাট’। বাংলায়: ঢুসো মারা। জিনেদাইন জিদান যে মাঠের মধ্যে অমন একটি কাণ্ড ঘটিয়ে দেবেন, অকল্পনীয়। ২০০৬। ইটালির সঙ্গে ফাইনাল চলছে ফ্রান্সের। খেলার মধ্যেই মার্কো মাতেরাজ্জির সঙ্গে কথা বলতে-বলতে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলেন এই ফরাসি কিংবদন্তি। তারপর কী যে হল, ফিরে মাতেরাজ্জির বুকে সজোরে ঢুসো মারলেন। মাঠের বাইরে থেকে বোঝা মুশকিল, এর প্রকৃত কারণ কী। হয়তো দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছিল। মাঠের মধ্যে অমন হয়েই থাকে।

আকছার দেখা যায়, ফুটবলাররা মুখের সামনে আঙুল এনে আড়াল তৈরি করে দিব্যি একে-অপরের দিকে বাছাই করা শব্দবাণ ছুড়ে দিচ্ছেন। আঙুল দিয়ে আড়াল করা কেন? যাতে ঠোঁটের চলন দেখে বুঝতে পারা না-যায় কী বলা হচ্ছে। যাই হোক, সেই ঢুসো খেয়ে মাতেরাজ্জি মাঠে পড়ে কাতরাতে লাগলেন। আর, রেফারি সটান লাল কার্ড দেখালেন জিদানকে। বিন্দুমাত্র ভুল সিদ্ধান্ত নয়। এ ধরনের অখেলোয়াড়োচিত আচরণকে বরদাস্ত করা হবেই-বা কেন? জিদানের বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে মনস্তাত্ত্বিক চাপের মধ্যে পড়ে যায় ফরাসি দল, আর তা থেকে সে-রাতে বেরতে পারেনি। চতুর্থবারের জন্য বিশ্বকাপ জিতে নেয় ইটালি।

Advertisement

তবে চলতি ‘২৬ বিশ্বকাপে লাল কার্ড ঘিরে যা ঘটল, এমনটি আগে ঘটেনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ‘ফিফা’-র বিরুদ্ধে আত্মমর্যাদা হারানোর অভিযোগ উঠল।

দিয়েগো মারাদোনা লাল কার্ড দেখেছিলেন ১৯৮২-র বিশ্বকাপে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যাম। কখনও কার্ড দেখানো ছিল অনিবার্য। কখনও আবার কার্ড দেখানো নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। একটি লাল কার্ডের সঙ্গে বদলে গিয়েছে জেতা-হারার ভারসাম্য। তলিয়ে গিয়েছে কোনও একটি দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন।

তবে চলতি ‘২৬ বিশ্বকাপে লাল কার্ড ঘিরে যা ঘটল, এমনটি আগে ঘটেনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ‘ফিফা’-র বিরুদ্ধে আত্মমর্যাদা হারানোর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ উঠল, বৃহত্তর রাষ্ট্রশক্তির অফুটবলোচিত ফতোয়ার সামনে নতজানু হওয়ার।

ইউরোপীয় এমপিদের তরফে ফিফার সর্বময় কর্তা গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফিফার সিদ্ধান্তকে বলা হচ্ছে ‘অদৃষ্টপূর্ব, বোধের অগম্য, অসংগত’।

পয়লা জুলাই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ম্যাচ ছিল বসনিয়া ও হারজেগোভিনা-র। মার্কিনরা জিতলেও তাতে লাল কার্ড দেখেন ফোলারিন বালোগুন, দলের একনম্বর স্ট্রাইকার। নিয়মমতে, পরের ম্যাচে তিনি নির্বাসিত হবেন, খেলতে পারবেন না। কিন্তু বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফোলারিন যাতে খেলতে পারেন, সেজন্য পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে বিশেষ অনুরোধ যায় ফিফা সভাপতির কাছে। সেটি পাঠিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এবং দেখা গেল, ফিফা তুলে নিল লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞা। অতঃপর ইউরোপীয় এমপিদের তরফে ফিফার সর্বময় কর্তা গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফিফার সিদ্ধান্তকে বলা হচ্ছে ‘অদৃষ্টপূর্ব, বোধের অগম্য, অসংগত’। একজন রাষ্ট্রপ্রধান কি পারেন এ-জাতীয় অনুরোধ করতে? ২০০৬ সালে জিদানের লাল কার্ড দেখার পরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট যদি সিদ্ধান্তটি খতিয়ে দেখার আরজি জানাতেন, ফুটবলের ভাবমূর্তি কি উজ্জ্বল হত? খেলা- রাজনীতির ঊর্ধ্বে। কিন্তু ফিফা তা প্রমাণিত হতে দিল কোথায়?

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.