১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ঠিক রাত ১২টার সময় স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু বলেছিলেন বটে, ‘অ্যাট দ্য স্ট্রোক অফ দ্য মিডনাইট আওয়ার, হোয়েন দ্য ওয়ার্ল্ড স্লিপস, ইন্ডিয়া উইল আওয়েক টু লাইফ অ্যান্ড ফ্রিডম’- তখন কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সারা পৃথিবী নিদ্রিত ছিল না। আমাদের যখন মধ্যরাত, আমেরিকায় তখন মধ্যদিন, বিলেতে প্রায় সন্ধে। ভৌগোলিক কারণে সময়ের এই তারতম্য। সেই কারণেই, আমেরিকায় দিনের আলোয় ঘটা বিশ্বকাপ ফুটবল বাঙালি দেখছে রাত জেগে।
এই তো শুরু হল বাঙালির রাত জাগা, উত্তেজনা, শিহরন, হিরো পুজো। চলবে বেশ কিছু দিন। তবে রাত জাগতে এবং অফিসে ঝিমতে বাঙালির জুড়ি নেই। ভালবাসার মানুষকে গান শোনানোর জন্যও বাঙালি অক্লেশে পারে জেগে থাকতে ‘তোমায় গান শোনাব তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখ’- এই কথা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের। তিনি আক্ষরিক অর্থে এই কাজটি করেও ছিলেন। শান্তিনিকেতনে তাঁর অতিথি সাহিত্যিক বনফুলকে অনেক রাত্রে ঘুম থেকে তুলে গেয়ে শুনিয়েছিলেন ‘ঘরেতে ভ্রমর এল গুনগুনিয়ে’। রাত জাগতে পারতেন বটে রবীন্দ্রনাথ। রাতের পর রাত জেগে আঁধার আকাশে সূর্যের প্রথম আলোকরেখা না দেখলে তাঁর গানের এই অমোঘ পঙক্তি তিনি কল্পনায় পেতেন না-‘নিকষেতে উঠল ফুটে সোনার রেখাখানি’।
আরও এক রাত জাগার প্রসঙ্গে যাওয়া যায় হয়তো, যে রাত জাগা তুল্য নয়। প্রতিতুল্য। কেননা, এই রাত জাগরণ ব্যক্তিগত বেদনার, বিচ্ছেদ ও বিরহের।
তবে এ তো গেল নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিভৃতিনিহিত রাত্রিজাগরণ। কিন্তু আমরা সম্প্রতি দেখেছি বাঙালির বিবেকতাড়িত, বেদনাপ্লাবিত, মশালদীপ্ত রাতদখল। এই রাতজাগরণ প্রতিবাদের। এই রজনী জাগৃতি অঙ্গীকারের। বাঙালির এই দলবন্ধ চেতনা আলোকিত রাত্রিযাপন বাঙালির কালীপুজোর মহানিশার থেকে আবেদনে, ব্যাপ্তিতে কম পবিত্র ও পরমার্থিক নয়। বাঙালির এই রাত দখলের শক্তির কোনও শব্দ ছিল না। ছিল না কোনও ঝলক, উন্মাদনা, উল্লাস। ছিল শুধু একবন্ধ রাতদখল ও চেতনার স্রোত।

এমনই এক দুর্যোগের রাত্রির কথা লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ- ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে’।
আরও এক রাত জাগার প্রসঙ্গে যাওয়া যায় হয়তো, যে রাত জাগা তুল্য নয়। প্রতিতুল্য। কেননা, এই রাত জাগরণ ব্যক্তিগত বেদনার, বিচ্ছেদ ও বিরহের। ‘আমিও একাকী তুমিও একাকী… নিদ নাহি আঁখি পাতে’- লিখে গিয়েছেন অতুলপ্রসাদ বিচূর্ণ দাম্পত্যের অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে। বিচ্ছেদের বেদনা থেকে ব্যক্তিগত শোক সবকিছু তীব্র হয়ে ওঠে রাতের অন্ধকারে। রাত্রিবেলা ঘুম কেড়ে নেয় যাপনের যন্ত্রণা, অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের ভীতি, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। এমন রাত জাগরণের থেকে ভয়ংকর বোধহয় জীবনে কিছু নেই। জীবনে এমন উৎকণ্ঠার, উদ্বেগের রাত জাগা সবার জীবনেই আসে।
এমনই এক দুর্যোগের রাত্রির কথা লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ- ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে’। এমন একক নিঃসঙ্গ যন্ত্রণায় রাত জাগার কথা ভাবলেই অনেকের মনে আসবে জার্মান ভাষায় ইহুদি-চেক লেখক ফ্রানৎস কাফকাকে। তাঁর জীবনের প্রতিটি রাত হয়ে উঠেছিল দুঃস্বপ্ন। তাঁর নিজের মানস-যাতনা থেকে পালানোর পথ ছিল না।
সর্বশেষ খবর
-
বলিউড নিষেধাজ্ঞাতেও নো টেনশন! ৬ কোটির ফেরারি চালিয়ে মুম্বইয়ের ‘ডন’ রণবীরই, দেখুন ভিডিও
-
মমতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন অখিলেশ! ‘জনতাই ওঁকে চায়নি’, কলকাতায় দিদিকে বিঁধলেন কিরণময়
-
নাৎসিরাই সেরা! জার্মানি-কুরাসাও ম্যাচ চলাকালীন বর্ণবিদ্বেষী আচরণ রেফারির, উঠল সরানোর দাবি
-
বিশ্বকাপে মেসিদের ম্যাচে প্রবেশ নিষেধ হাজার হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থকের, নেপথ্যে কোন কারণ?
-
‘পাক সন্ত্রাসবাদী বললেও সমস্যা নেই’, ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সোচ্চার প্রকাশ রাজ
