অবশেষে বৃত্ত সম্পূর্ণ। মাত্র ২ বছর আগে যে ময়দানে দাঁড়িয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, ছিলেন ‘রাজনৈতিক শত্রু’ আজ সেই একই ময়দানে তাঁরা হাতে হাত ধরে হয়ে উঠলেন সহযোদ্ধা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লালপার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman)। কার্যত অসম লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল তাঁকে। প্রতীকের হার পূর্বনির্ধারিতই ছিল। সেই পরাজয়ের দু’বছর পর রাজ্যে ভোটের দামামা বেজেছে। আগামী মাসে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। তার আগে সেই ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ঘাসফুলের পতাকা তুলে তৃণমূলে যোগ দিলেন একদা প্রতিপক্ষ প্রতীক উর রহমান। ‘ইনকিলাব’ ভুলে প্রতীকের গলায় শোনা গেল ‘জয় বাংলা’। বললেন, ‘‘আমার নীতি নৈতিকতা বলে, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে আটকাব। বিজেপিকে আটকাব।”

আরও পড়ুন:
ছাব্বিশের ভোটের আগে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে বিরাট বদল হয়ে গেল। দলের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ-সহ জেলা, রাজ্য কমিটির সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ২০২৪-এ ডায়মন্ড হারবারের সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর রহমান। তখন থেকেই জল্পনা উসকেছিল, চলতি সপ্তাহে প্রতীক উর ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাবেন। ভোটে তৃণমূল থেকে তাঁকে প্রার্থী করা নিয়ে ‘ডিল’ হয়েছে।
জল্পনা সত্যি করে শনিবার বিকেলে আমতলায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের বাইরে তাঁর হাত থেকে পতাকা তুললেন বহিষ্কৃত তরুণ কমরেড। ‘ডিল’ সংক্রান্ত সমালোচনার জবাবে বললেন, ‘‘আমার নীতি নৈতিকতা বিজেপির ফ্যাসিস্ট শক্তিকে আটকাব। বিজেপিকে আটকাব, এটাই ডিল হয়েছে।” সদ্যপ্রাক্তন দলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না। কারও নাম না করেই বললেন, ‘‘আমার মার খাওয়ার পিছনে আজ কারা দায়ী? তোমরাই দায়ী। তোমরাই আমাকে মারের মুখে ঠেলে দিয়েছ। আমি তো থাকতে চেয়েছিলাম।”
তৃণমূলের সঙ্গে ‘ডিল’ সংক্রান্ত সমালোচনার জবাবে প্রতীক উর বললেন, ‘‘আমার নীতি নৈতিকতা বিজেপির ফ্যাসিস্ট শক্তিকে আটকাব। বিজেপিকে আটকাব, এটাই ডিল হয়েছে।” সদ্যপ্রাক্তন দলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না। কারও নাম না করেই বললেন, ‘‘আমার মার খাওয়ার পিছনে আজ কারা দায়ী? তোমরাই দায়ী। তোমরাই আমাকে মারের মুখে ঠেলে দিয়েছ। আমি তো থাকতে চেয়েছিলাম।”
বিজেপি বিরোধিতা প্রশ্নে প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman) নিজের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে জানালেন, তাঁর কাছে বিজেপি মূল প্রতিপক্ষ। বিজেপিকে রুখে দিতে সবরকম কাজ করতে রাজি তিনি। আর তৃণমূলই একমাত্র সেই কাজে এগিয়ে। এ প্রসঙ্গে সিপিএমের অবস্থান নিয়েও মুখ খুললেন তিনি। প্রতীক জানিয়েছেন, ‘‘তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে আমরা ভিক্ষা বলেছিলাম বলে দল একদিন আপত্তি তুলল। বলল, ভিক্ষা বলা মানে মানুষের অপমান। মেনে নিয়ে আমরা তখন ভাতাবৃদ্ধির দাবি তুললাম। দল তো আজ যা বলে, কাল তা পালটে দেয়। মূল প্রতিপক্ষ তৃণমূল ও বিজেপি দুটোই। কিন্তু আমরা লড়াই করেছি বিজেপিকে আটকাতে। সেই কাজে তৃণমূলই এগিয়ে। আমার নীতি-নৈতিকতা হল ফ্যাসিস্ট বিজেপিকে আটকানো। তৃণমূলের সঙ্গে ডিলের কথা বললে এই ডিলই হয়েছে।” এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানিয়েছেন, প্রতীক উর তাঁকে জানিয়েছেন যে ভোটের টিকিট নয়, তৃণমূলে সংগঠনের কাজই তিনি করতে চান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, ফের জেল হেফাজতে প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার
-
‘ভারত-চিন সম্পর্কে নাক গলাবে না রুশ’, ত্রিকোণ বন্ধুত্বের সমীকরণে স্পষ্ট বার্তা পুতিনের
-
কাটমানি না দিলে বাড়ি নয়, বড়ঞায় গ্রেপ্তার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী-সহ ৪
-
আমেরিকার বিশ্বকাপে শোনা যাবে না ভুভুজেলার শব্দ, নিষেধাজ্ঞা ‘রিইউজেবল’ জলের বোতলেও
-
বাড়িতে অন্ত্যেষ্টির তোড়জোড়, ৫ দিন পর এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’ থেকে সশরীরে ফিরলেন শেরপা
নিবেদিত


