তাঁর তৈরি জনতা উন্নয়ন পার্টির তথাকথিত মহাসমাবেশ। উপস্থিত তাঁর কয়েক হাজার অনুগামী (হুমায়ুনের দাবি কয়েক লক্ষ)। অন্য শরিক দলের নেতারা মঞ্চে। একপ্রকার হঠাৎই হুমায়ুন কবীর হিন্দুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন। ২০২৪ সালে হিন্দুদের ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়ার যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, সেই মন্তব্যের জন্য হুমায়ুন অনুতপ্ত। অন্তত প্রকাশ্য সভায় তেমনটাই দাবি করলেন তিনি।
শনিবার বেলডাঙায় জনতা উন্নয়নের পার্টির মহাসমাবেশ থেকে হুমায়ুন (Humayun Kabir) দাবি করলেন, অধীর চৌধুরীকে হারাতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই বিতর্কিত কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি, “সেদিন হিন্দু ভাইরা মনে আঘাত পেয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ভবিষ্যতে মিথ্যাবাদী মুখ্যমন্ত্রীর কথায় হুমায়ুন কবীর আর উসকানিমূলক, সাম্প্রদায়িক কথা বলবে না।”
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন বলেন, “বহরমপুরের মানুষ অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইউসুফ পাঠানকে ভোট দিয়েছে। সে সময় ইউসুফকে জেতানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নির্দেশ দিয়েছিল।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কার্যকর করার জন্যই আমি কিছু কথা বলেছিলাম।” জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা, “উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এসে আমার বুকের উপর দাঁড়িয়ে আমাকে দাঙ্গাবাজ বলেছিল। আমাকে উল্টো করে টাঙিয়ে সিঁধে করার কথা বলেছিল। জেলার কোনও তৃণমূল নেতা আমার হয়ে মুখ খোলেনি। তাই আমাকেই পালটা দিতে হয়েছিল। আমি বলেছিলাম আপনি যদি উল্টো করে সিঁধে করতে চান তাহলে আমি হুমায়ুন কবীর দু’ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশ দিলে আপনার বিজেপি করা হিন্দু ক’টাকে ভাগরথীদের জলে ঝাঁপ দেওয়া করাবে। এই মন্তব্যের জন্য আমি অনুতপ্ত, দুঃখিত।”
বরাবরই হুমায়ুন বিতর্কিত চরিত্র। এক দলে মন বসে না তাঁরা। খবরে থাকতে ভালোবাসেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে একটু বেশিই বিতর্কিত হয়ে গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। নতুন দল খোলার পর সম্ভবত তিনি বুঝেছেন ভোটে সাফল্যের জন্য হিন্দুদেরও দরকার। সেকারণেই এই ক্ষমাপ্রার্থনা। আর সেকারণেই সেদিনের মন্তব্যের দায় তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ঠেলার চেষ্টা করছেন তিনি। এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার ‘কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ বাঁধাবেন একেনবাবু, সম্মুখ সমরে ঋত্বিক! আর কোন চমক?
-
অবশেষে শুরু অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদন, কীভাবে পূরণ করবেন ফর্ম? জানুন খুঁটিনাটি
-
হিন্দু-মুসলমানের রাজনীতি আর কতদিন! দিল্লিতে বিক্ষোভ ককরোচ পার্টির, নিরাপত্তা দিল শাহের পুলিশ
-
শওকতের গ্রেপ্তারিতে ভাঙড়ে মিষ্টি বিলি আরাবুলের, তুমুল নাচ আইএসএফ কর্মীদের
-
বিশ্বাস ভাইদের অবিশ্বাস্য কীর্তি! এলআইসির জমি ‘জবরদখল’ সুরুচি সংঘের
নিবেদিত


