দীপঙ্কর মণ্ডল ও শঙ্করকুমার রায়: ইসলামপুরের নাম বদলে স্কুলের সাইনবোর্ডে কেন লেখা হয়েছে ‘ঈশ্বরপুর’? সরস্বতী শিশুমন্দির ও বিদ্যামন্দির কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর৷ সূত্রের খবর, স্কুলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ডে এলাকার নাম পরিবর্তন করার সাহস দেখানোয় ‘বাতিল’ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পরিচালনায় থাকা স্কুলের রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুমোদন৷ তবে, স্কুলের অনুমোদন বাতিল হলেও পড়ুয়াদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেবিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফেও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর৷
স্কুলের সাইনবোর্ডে ইসলামপুরের নাম বদলে ‘ঈশ্বরপুর’ লেখার ঘটনায় বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্কের ঝড় ওঠে রাজ্য-রাজনীতির ময়দানে৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয় বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর৷ বিতর্কের আগুনে জল ঢালতে মাঠে নামেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ নাম না করে বেসরকারি স্কুলগুলির প্রশাসনিক ছাড়পত্র নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেন শিক্ষামন্ত্রী৷ জানিয়ে দেন, স্কুলশিক্ষা দপ্তর এই বিষয়ে কড়া আইন তৈরি করছে৷ ইসলামপুরে সরস্বতী শিশুমন্দির ও বিদ্যামন্দির নিয়ে কোনও শব্দ ব্যবহার না করলেও বেসরকারি স্কুলের কোনওরকম অনিয়ম দেখা দিলে অনুমোদন বাতিল হবে বলে ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী৷
রহিম ভাইয়ের হাতে তৈরি প্রতিমার কাঠামো, সম্প্রীতির মেলবন্ধন জগদ্ধাত্রী পুজোয়
সম্প্রতি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পরিচালনায় গড়ে ওঠা সরস্বতী শিশুমন্দির ও বিদ্যামন্দিরের সাইনবোর্ডে ইসলামপুরের বদলে ‘ঈশ্বরপুর’ লেখা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে একটি ছবি৷ এলাকার নাম বিভ্রাটের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়৷ নাম বিভ্রাটের খবর প্রকাশ হতেই শুরু হয় প্রশাসনিক তৎপরতা৷ পরে, স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে কারণ জানতে চাওয়া হয় বলে স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর৷ পরে স্কুলের অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে খবর৷
[রায়গঞ্জে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল ছাত্রনেতা, গ্রেপ্তার ৫]
কিন্তু, কেন এই বিপত্তি? কী বলছে ইতিহাস? জানা গিয়েছে, এলাকাটি আগে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার অন্তর্গত ছিল। ১৯৫৮ সালে, বিধানচন্দ্র রায়ের আমলে এটি পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। আগে প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল করিম চৌধুরি ছিলেন এখানকার জমিদার৷ জনশ্রুতি, তখন এই জনপদের নাম ছিল ইউসুফপুর। পরে নাম হয় ইসলামপুর। কিন্তু ঈশ্বরপুর কোনওকালেই ছিল না।
[কান কাটা গিয়েছে সদ্যোজাতর, অভিযোগে উত্তাল হাসপাতাল]
তাহলে কেন ইসলামপুরের নাম ঈশ্বরপুর হল? কারণ কোথাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তবে জায়গার নাম পরিবর্তন নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও এলাকার হিন্দু সংগঠনগুলি বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে জায়গার নাম কোনওভাবেই মুসলিম নামে রাখা যাবে না। বারবার দাবি তোলা সত্ত্বেও কাজ হয়নি। তাই তারা নিজেদের সাইনবোর্ডে ইসলামপুরকে ‘ঈশ্বরপুর’ করে দিয়েছে। এমনকী তাদের পরিচালিত সরস্বতী শিশুমন্দির ও বিদ্যামন্দির স্কুলেও জায়গার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত একটি স্কুলে কীভাবে এমন নাম পরিবর্তন করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2024 Pratidin Prakashani Pvt. Ltd. All rights reserved.