বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য ও ধনরাজ তামাং: নির্বাচনের তিনদিন আগে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করল। অবশেষে প্রবল চাপের মুখে দলের দার্জিলিং পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিনয় তামাংকে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করলো প্রদেশ কংগ্রেস। মঙ্গলবার দলের প্রদেশ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তী এক বিবৃতিতে ওই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এদিনই বিনয় খোলামেলা ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং ভাইরাল ভিডিওতে বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তাকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান।
প্রথম দফার ভোটের মাত্র তিনদিনের মাথায় এমন ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েন কংগ্রেস-বাম জোট নেতৃত্ব। পরিস্থিতি এতোটাই ঘোরাল হয়ে ওঠে যে কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে এসে ওই প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। এই মুহূর্তে কড়া পদক্ষেপ করলে পাহাড়ে গোর্খা ভোটে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে এই শঙ্কায় দুপুর পর্যন্ত টানাপোড়েন চলে। যদিও তার আগেই জোট শরিক সিপিএমের (CPIM) তরফে যত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কংগ্রেস নেতৃত্বকে অনুরোধ করা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে কার্যত বামেদের চাপে প্রদেশ কংগ্রেস অবশেষে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনয় (Binoy Tamang) অবশ্য বেপরোয়া ভাবেই দলের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে চাননি।
[আরও পড়ুন: ‘সাত দফায় সাত অঙ্গ ভাঙব বিজেপির’, দার্জিলিংয়ে হুঁশিয়ারি অভিষেকের]
তিনি বলেন, “কংগ্রেস কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। আমার গোর্খা, দার্জিলিং পাহাড়, শিলিগুড়ি, তরাই এবং ডুয়ার্সের লোকেরা যদি আমাকে উচ্ছেদ করত তবে চিন্তার বিষয় ছিল।” সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “কংগ্রেস থেকে আমার বহিষ্কার হল গোর্খা, দার্জিলিং পাহাড়, শিলিগুড়ি, তরাই এবং ডুয়ার্সের মানুষের জয় এবং কংগ্রেসের (Congress) পরাজয়।” দল থেকে বহিষ্কারের বিনয় কোন দলে যোগ দিচ্ছেন সেই প্রশ্নে পাহাড়ে জল্পনা তুঙ্গে।
[আরও পড়ুন: জঙ্গিদের টার্গেট! নিরাপত্তা বাড়ছে মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেকের]
তবে বিনয় তামাংয়ের দলত্যাগ অথবা দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা এই প্রথম নয়। তিনি নভেম্বর মাসে কালিম্পংয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেন। একসময় তিনি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রতিষ্ঠাতা বিমল গুরুংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০১৭ সালে তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়। বিনয় তৃণমূলে ঘনিষ্ঠ হন। পরে জিটিএ (GTA) চেয়ারম্যান হন। ২০১৯ সালে জিটিএ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তৃণমূলের সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দিলেও এক বছরের মধ্যে দল ছেড়ে দেন। বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তার (Raju Bista) সমর্থনে বিনয়ের প্রচার প্রসঙ্গে এদিন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং বলেন, “পাহাড়ের প্রত্যেকে রাজুকে সমর্থন করছে। বিনয় বাইরে থাকতে পারবে না। এটাই স্বাভাবিক।”
সর্বশেষ খবর
-
সভাপতি পদে দায়িত্ব নিয়েই মহামেডানকে ঋণমুক্ত করার আশ্বাস হুমায়ুনের, বার্তা ‘রাজনীতি’ নিয়েও
-
আগামী সপ্তাহেই সংসদে ‘অপারেশন লোটাস’! মমতার নির্দেশে হঠাৎ দিল্লিতে অভিষেক
-
‘ওয়াকা ওয়াকা’র নস্ট্যালজিয়া উসকে ফিরছে শাকিরা ম্যাজিক, কোন গানে ‘ফিফা’র মঞ্চ মাতাবেন নোরা?
-
‘ভাইকিং’ পোশাকে ফোটোশুট হালান্ডদের, বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে
-
কারা পাবেন আবাসের বাড়ি? সুবিধাভোগী যাচাইয়ে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা, রয়েছে ‘সেলফ সার্ভে’র সুবিধাও