অর্ণব দাস, বারাসত: বিগত তিন-চার বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে অশোকনগরের চড়া সুদের আড়ালে কিডনি পাচার কাণ্ডে ধৃতদের সম্পত্তি। ধৃত সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল তৈরি করেছিল মার্বেলের পেল্লাই দোতলা বাড়ি। বানিয়েছিল লক্ষ লক্ষ টাকার গয়না। স্থাবর অস্থাবর মিলিয়ে কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি করেছিল সে। ধৃত গুরুপদ জানা ওরফে অমিত তাঁর বসত বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর এলাকায় কয়েক বছরেই কিনে নিয়েছিল প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার জমি। ধৃতদের জেলা করে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে আসায় প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের এই সম্পত্তির সঙ্গে কিডনি পাচারের লিংক নিশ্চিত হলে অথবা হিসাব দিতে না পারলে সম্পত্তি ক্রোক করার পথেই হাঁটতে চলেছে পুলিশ। প্রাথমিক পর্যায়ে এর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে অশোকনগর থানা। পাশাপাশি যার অভিযোগের ভিত্তিতে কিডনি পাচার তদন্তের শুরু হয়, তাঁর স্ত্রী যাকে কিডনি দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা সেই কিডনি গ্রহীতাকেও ইতিমধ্যে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে বেশ কয়েকজন ভিনরাজ্যের কিডনি গ্রহীতার হদিশ পেয়েছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে কীভাবে এই চক্রের যোগাযোগ হয়েছিল বা কত টাকার বিনিময়ে তারা কিডনি কিনেছিলেন সেই দিকটিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মেঘের আড়ালে থাকা যায় মাধ্যমে ভিনরাজ্য-সহ বিদেশি ক্লায়েন্ট জোগাড় হত, তাঁর খোঁজ পেতে খুব শীঘ্রই সেই কিডনিগ্রহীতাদের জেরা করবে বলেই সূত্রের খবর। ধৃতদের ঝড়ের গতিতে সম্পত্তি বাড়ার তদন্তও পাশাপাশি চলবে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ধৃত পাঁচজনকে আদালতে পেশ করা হলে সুদখোর শীতলের ২দিনের জেল হেফাজত এবং অমিত সহ বাকি চারজনের ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.