সৈকত মাইতি, তমলুক: চারদিকে হিংসা, বিভেদের রাজনীতির ছবি। তখন পাঁশকুড়ায় ফুটে উঠল অনন্য সম্প্রীতির ছবি। মুসলিম মৃৎশিল্পীদের হাতেই সেজে উঠল কালীপ্রতিমা। রুবিনা, সুজাতাদের তুলির টানে সাজছেন দেবী।
পাঁশকুড়ার খণ্ডখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কেশববাড় এলাকা। এই গ্রামের চিত্রকর পাড়ায় ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বাস। রুবিনা চিত্রকর, সুজাতা চিত্রকর, তাপস চিত্রকররা মুসলিম হলেও বংশ পরম্পরায় হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করে আসছেন।
শেষ নাম ‘চিত্রকর’ শুনে খটকা লাগছে? আসলে দীর্ঘকাল ধরে গ্রামীণ লোকশিল্পের সঙ্গে একাত্মভাবে জড়িয়ে থাকায় এই বাসিন্দাদের পারিবারিক পদবী ‘চিত্রকর’ হয়ে গিয়েছে।
রুটিরুজির তাগিদে বাড়ির পুরুষরা ইন্দোর, রায়পুর, টাটার মতো ভিন রাজ্যে গিয়ে প্রতিমা গড়েন। এদিকে, বিশ্বকর্মা থেকে শুরু করে দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী প্রতি পুজোতেই নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন রুবিনা, সুজাতারা।
মৃৎশিল্পীদের পূর্বপুরুষরা কাপড়ের উপর আঠা দিয়ে কাগজ লাগাতেন। সেই কাগজেই থাকত তুলির টান। নানান দেবদেবীর গল্পগাথা, পৌরাণিক ঘটনা, বন্যা, খরা- তুলির টানে সবই ফুটে উঠত কাগজের মধ্যে। পটচিত্রী হিসেবেও এঁদের খ্যাতি রয়েছে। আগে চিত্রকররা সেই পটচিত্র নিয়েই পাড়ায় পাড়ায় গান শুনিয়ে সংসার চালাতেন। সেসব আর আজকের দিনে খুব একটা দেখা যায় না। তাই প্রতিমা গড়ার কাজকেই বেছে নিয়েছেন এই মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দারা।
এই প্রসঙ্গে মৃৎশিল্পী সুজাতা চিত্রকর বলেন, “ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী আমরা ইদ, মহরম পালন করি। কিন্তু আমাদের সংসার চলে হিন্দু দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি করেই। কিন্তু এই পেশাও বর্তমানে সংকটের পথে। কারণ, যেভাবে প্রতিমা তৈরির সামগ্রী বা কাঁচামালের দাম বাড়ছে তাতে প্রতিমা তৈরি করে তেমন লাভ থাকছে না। তবুও বাপ-ঠাকুরদাদের পেশাকে আঁকড়ে ধরে কোনওরকমে বেঁচে থাকা। যদি সরকারি কোনও সাহায্য সহযোগিতা মেলে তাহলে খুবই উপকৃত হব আমরা।”
এলাকার বাসিন্দা তথা খণ্ডখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সিদ্দিক মল্লিক বলেন, “বহু বছর ধরেই বংশপরম্পরায় এই চিত্রকর পরিবারের সদস্যরা প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। দীর্ঘকাল ধরে গ্রামীণ লোকশিল্পকলার সঙ্গে একাত্মভাবে জড়িয়ে থাকায় এই বাসিন্দাদের পারিবারিক পদবী চিত্রকর হয়ে গিয়েছে।”
সর্বশেষ খবর
-
মিশরকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে! এবারে মেসিদের জয়ে নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানিরও
-
ফের ভূমিধসে অবরুদ্ধ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, তীব্র যানজটে আটকে বহু পর্যটক
-
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাঙ্কে জমা হবে দান, তারাপীঠ মন্দিরেও এবার ডিজিটাল লেনদেন
-
সরকারি চাকরির লোভ, ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে মা’কে খুন মেয়ের! তারপর…
-
জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে হাজার হাজার গ্যাস সিলিন্ডার, সংকটের মধ্যে মহারাষ্ট্রে উদ্বেগ