ধৃত তিন অভিযুক্ত। নিজস্ব চিত্র
অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: ব্যবসায়িক চুক্তির নাম করে রাজস্থান থেকে এক কাপড়ের ব্যবসায়ীকে নিশ্চিন্দায় ডেকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। মুক্তিপণ হিসেবে চাওয়া হয়েছিল ১০ লক্ষ টাকা। কিন্তু খবর পাওয়ার দেড় ঘন্টার মধ্যেই ওই ব্যবসায়ীর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তাকে উদ্ধার করল হাওড়া সিটি পুলিশ। পাশাপাশি যারা অপহরণ করেছিল তাদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নিল নিশ্চিন্দা থানা।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত দুটো নাগাদ নিশ্চিন্দা থানায় ফুলবাগানের বাসিন্দা মানস ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি ফোন করেন। তিনিই পুলিশকে রাজস্থানের কাপড় ব্যবসায়ী শচীন বৈষ্ণবের অপহরণের কথা জানান। শচীনের ব্যবসার অংশীদার অজিত সিংকে অপহরণকারীরা ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা চায়। কিন্তু অপহরণকারীরা যখন শচীনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তখন সে তার মোবাইলের টাওয়ারের লাইভ লোকেশন অজিতকে শেয়ার করে দেন। তখনই অজিত জানতে পারেন, বালির রামচন্দ্রপুরের একটি বাড়িতে শচীনকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে। ওইদিন রাত ২টোয় পুলিশ এই ঘটনা জানার দেড় ঘন্টার মধ্যে ওই ব্যবসায়ীর টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে শচীনকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকেই তিন জনকে গ্রেপ্তার করে।
ধৃতরা হল মৃত্যুঞ্জয় ঝাঁ ওরফে সত্যম। তার বাড়ি বেলুড় হাউসিং গেটের কাছে। জিতেন্দর সাউ, বাড়ি বালির ছোট দুর্গাপুরে ও অভিষেক শর্মা যার বাড়ি উত্তরপাড়ার মাখলা দাসপাড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে আরও একজন পলাতক। এর খোঁজে সোমবার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালায় নিশ্চিন্দা থানা। পলাতক ব্যক্তির বাড়িতেই অপহরণ করে রাখা হয়েছিল ব্যবসায়ীকে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হলে তাদের ৬ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে। কিন্তু কীভাবে অপহৃত হলেন ব্যবসায়ী শচীন?
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিমানে কলকাতা আসে শচীন। তার পর ডানকুনির একটি হোটেলে ছিল সে। ধৃত সত্যমই তাকে ওই হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারিই তার রাজস্থানের জয়পুরে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এই সত্যমই অন্যদের সঙ্গে চুক্তি করে শচীনকে অপহরণ করে আটকে রাখে। অবশেষে পুলিশের জালে পড়ল তিনজনই।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.