টিটুন মল্লিক,বাঁকুড়া: অসমে এনআরসি-র পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে নাম ধরে ধরে আবেদনকারী ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের স্টেটাস দেওয়া হয়েছে। যথারীতি ১৯ লক্ষ মানুষ নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ। তাঁদের আবেদন খারিজ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা অসমের সাংসদ রামেশ্বর তেলি। শনিবার তিনি বাঁকুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর কিষাণ সম্পদ যোজনা প্রকল্পের কর্মশালায় যোগ দিতে গিয়ে একথা জানালেন।
অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়ন এবং যোগ্য নাগরিককে প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার উদ্দেশে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছে। তবে সেই তালিকা যে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষেই বুমেরাং হয়ে গিয়েছে, তার প্রমাণ বাদ পড়া ১৯ লক্ষের মধ্যে ১২ লক্ষই হিন্দু বাঙালি হওয়ায়। শনিবার বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে রামেশ্বর তেলি এ নিয়েই সুর চড়ালেন। তাঁর বক্তব্য, “এনআরসি থেকে বাদ পড়ে যাওয়া বাসিন্দাদের নিয়ে ইতিমধ্যেই অসমের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথাও হয়েছে।” এরপরই তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, অসমে এনআরসি থেকে বাদ পড়ে যাওয়া বাসিন্দাদের হয়ে তিনি এবং অসমবাসী আদালতে যাবেন শীঘ্রই।
এপ্রসঙ্গে অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রামেশ্বর তেলি জানান, ২০০ বছর আগে তাঁর পরিবারের লোকজন মধ্যপ্রদেশ থেকে চা শ্রমিক হিসাবে কাজে গিয়েছিলেন অসমে। বর্তমানে তিনি আসাম থেকে দু বারের বিধায়ক এবং সাংসদ হয়েছেন। হিন্দিমিশ্রিত বাংলায় বক্তব্য পেশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘অসম হল মিনি ইন্ডিয়া। এখানে বহু ভাষাভাষীর মানুষ বাস করেন।’ এর মাধ্যমেই তিনি বহু ভাষাভাষীর দেশ হিসাবে ভারতবর্ষকে তুলে ধরেন তিনি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা,বাঁকুড়ার অনুষ্ঠানে যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য রামেশ্বর তেলি দেশের বহু ভাষাভাষীর স্বীকৃতি নিয়ে কথা বলছেন, ঠিক তখনই জাতীয় হিন্দি দিবসে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দাবি,’একটি ভাষাই বিশ্বজুড়ে ভারতের পরিচয় নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেটি হিন্দি।’ তিনি এদিন টুইট বার্তায় বলেছেন, হিন্দি হল বহুল ব্যবহৃত ও সহজবোধ্য ভাষা। কেবল এই ভাষাই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে। ‘এক দেশ এক ভাষার’ পক্ষে অমিত শাহের এহেন টুইট বার্তার পর বিতর্কের ঝড় উঠেছে। যদিও অমিত শাহের এই টুইটবার্তা নিয়ে রামেশ্বর তেলিকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে গিয়েছেন।
তবে এদিনের অনুষ্ঠানে শুরু হবার পর থেকেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যের এই প্রান্তিক জেলাগুলিতেও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। যা বহু বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। সেদিকে রাজ্য সরকারের ভ্রূক্ষেপ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুনুন মন্ত্রীর বক্তব্য:
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.