একা বাড়িতে থাকার সুযোগে গলায় দড়ি দেয় ছাত্রী৷
বিপ্লবচন্দ্র দত্ত, কৃষ্ণনগর: অভাবের সংসার৷ সময় মতো খাবারই জোটেনি৷ এমন দরিদ্র পরিবারের সন্তানের বইখাতা কেনা কিংবা গৃহশিক্ষক রাখা বিলাসিতার সামিল৷ স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষার ফলও খারাপ হয়েছিল৷ পাশ করতে পারেনি কিশোরী৷ ব্যর্থতার জেরে আত্মহত্যার রাস্তাই বেছে নিল এক উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী৷ পাশ করতে না পেরে শান্তিপুরের রামনগর এলাকার ওই ছাত্রী গলায় দড়ি দেয় সে৷ কিশোরীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তাঁর প্রতিবেশী-পরিজনরা৷
মঙ্গলবার রাতে পূজার বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না৷ তাই একাই ছিল ওই ছাত্রী৷ বেশ খানিকটা রাতে তার অভিভাবকরা বাড়িতে ফেরেন৷ বাড়ি ঢুকতে চমকে যান তাঁরা৷ দেখেন ঘরের মধ্যে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে পূজা৷ প্রতিবেশীদের তৎপরতায় খবর পৌঁছায় শান্তিপুর থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়৷ পূজা শান্তিপুরের রাধারানি নারীশিক্ষা মন্দির হাই স্কুলের ছাত্রী৷ উচ্চমাধ্যমিকের ফল বেরনোর পর পূজা জানতে পারে, সে পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। পাশ করতে না পারার জন্য অবশ্য পূজার বাড়ির লোকজন তাকে কখনই বকাঝকা করেননি। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল ওই ছাত্রী৷ সামান্য তন্তুজীবী পরিবারের মেয়ে পূজার সংসারের নিত্যসঙ্গী অভাব৷ প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আর্থিক অনটনের জেরে পূজার বাবা-মা গৃহশিক্ষক রাখতে পারেননি। তাই হয়তো পাশ করতে পারেনি সে৷ সম্ভবত সেই লজ্জায় আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূজা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরীক্ষায় পাশ করতে না পেরে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছে পূজা। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা৷ এদিকে, সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পূজার বাবা-মা৷ মেয়ের খারাপ ফলাফলের জন্য গৃহশিক্ষক রাখতে না পারার ব্যর্থতা যেন কাঁটা হয়ে বিঁধছিল তাঁর বাবা-মায়ের৷ আর তার জেরে সন্তানের মৃত্যু যেন মানতে পারছেন না কেউই৷
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.