দেবব্রত মণ্ডল, গোসাবা: শেষ দফা ভোটের আগে এখনও বাকি গোটা একটা দিন। কিন্তু একেকটা প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছতেই লেগে যাবে দীর্ঘ সময়। সুন্দরবনের দুর্গম এলাকা গোসাবা, পাথরপ্রতিমার বুথগুলিতে সময়মতো পৌঁছতে দিন দুই আগেই রওনা হলেন ভোটকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকালে গোসাবা বিডিও অফিসের মাঠে DCRC সেন্টারে গিয়ে দেখা গেল, চারিদিকে বসে আছেন ভোট কর্মীরা। যার মধ্যে বেশ কিছু মহিলা ভোটকর্মীও আছেন। পুরুষদের পাশাপাশি বেশ কিছু মহিলা পরিচালিত বুথ এবার বানানো হয়েছে গোসাবায়। আর তাই মহিলা ভোটকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে সেই সমস্ত বুথগুলিতে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের (Sunderbans) দুর্গম দুটি ব্লকের একটি পাথরপ্রতিমা, অন্যটি গোসাবা। পাথরপ্রতিমা ব্লকটি মথরাপুর (Mathurapur) লোকসভা কেন্দ্র এবং গোসাবা ব্লক জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। আর এইসব বুথের ভোটকর্মীরা রওনা হয়ে গেলেন বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পি-মাইনাস টু বুথ’। যার মধ্যে গোসাবায় আছে ২৬০ টি বুথ। অন্যদিকে, পাথরপ্রতিমা আছে ১৯৭ টি বুথ। আর এই সমস্ত বুথের ভোটকর্মীদের পৌঁছতে হয় জলযানে করে। কোথাও পাঁচ ঘন্টা, কোথাও বা ৬ ঘন্টা সময় লাগে। আর এই দীর্ঘ সময় জলযানে গিয়ে বুথের কাজ করতে অসুবিধাই হয় ভোটকর্মীদের। তাই তাঁদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে ভোটের দুদিন আগে তাঁদের পৌঁছে দেওয়া হয় ভোটকেন্দ্রগুলিতে।
[আরও পড়ুন: কাশ্মীরের থানায় সেনা-পুলিশ সংঘর্ষ! আহত ৫ পুলিশকর্মী, ১৬ জওয়ানের বিরুদ্ধে FIR]
অন্যদিকে, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এক একটি পার্টি পৌঁছে যাচ্ছেন তাঁদের নির্দিষ্ট বুথে। কোথাও কুমিরমারী, কোথাও পুইজালি আবার কেউ বা পৌঁছচ্ছেন মোল্লাখালিতে। পাথরপ্রতিমা জি প্লট, এল প্লট, তটেরবাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটকর্মীদের পৌঁছতে গভীর রাত হয়ে যাবে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষত এখনও রয়েছে এই দ্বীপগুলিতে। তাই প্রতিটি ভোটকর্মীদের সাপের (Snake) উপদ্রব থেকে বাঁচতে কার্বলিক অ্যাসিড দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে মশা মারার ক্রিম থেকে শুরু করে ওষুধপত্র। অন্যদিকে যাতে বিদ্যুতের সমস্যা হলে ভোট বন্ধ না হয় তার জন্য স্থানীয়ভাবে যেমন জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে তেমনি রোদ-জল থেকে বাঁচতে প্যান্ডেলও টানানো হচ্ছে বুথগুলোর সামনে। থাকছে এমার্জেন্সি লাইটের ব্যবস্থা। যথেষ্ট পানীয় জলের (Water) ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে প্রতিটি বুথের পাশেই।
[আরও পড়ুন: ৭৫ দিনে দুশোর বেশি র্যালি! নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন ৭৩-এর ‘তরুণ’ মোদি]
সকাল থেকেই দেখা যায় ভোটকর্মীরা জলযানে করে প্রথম পৌঁছচ্ছেন গোসাবায়। তার পর সেখান থেকে ভোটের সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে আবার জলযানে করে রওনা হচ্ছেন নির্দিষ্ট কেন্দ্রে। একই ছবি প্রায় পাথরপ্রতিমায়। প্রতিটি জলযানে রাখা হচ্ছে লাইভ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া। কারণ, নদীগুলিতে যথেষ্ট ঢেউ আছে। তাছাড়া এর আগে ভোট সেরে ফেরার পথে লঞ্চ থেকে পড়ে এক ভোটকর্মীর মৃত্যু হয়। সেই সব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাটিও জোরদার করা হয়েছে জলযানগুলিতে।
দেখুন ভিডিও:
সর্বশেষ খবর
-
পর্বতারোহীদের তাবু-স্লিপিং ব্যাগেও দুর্নীতি! এভারেস্টে মৃতদের খুঁজতে টাকা দেননি অরূপ? বিস্ফোরক পিয়ালি
-
বার বার আবেদনেও সাড়া দিচ্ছেন না তৃণমূল নেতারা! ভবন উদ্ধারে এবার আইনি পথের ভাবনা মালিকের
-
অমানিশার শেষ, টলিউডের ‘স্বরূপ’
-
খামেনেইয়ের কাছে বার্তা নিয়ে হাজির পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ইরানের সম্পত্তিতেই ক্ষতিপূরণের ভাবনা ট্রাম্পের
-
চাকরি দেওয়ার নামে কাটমানি! তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ স্থানীয়দের