ছবি: প্রতীকী।
শুভঙ্কর বসু: দু’টি জেলা। দু’টি আসন। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তিন হাজারের উপর। আগামী ১১ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ভোটের প্রথম দফার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আসছে ১২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তিনটি পর্যায়ে তাদের রাজ্যে আনা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিক, আগামিকাল শনিবারই রাজ্যে আসছেন উপ নির্বাচন কমিশনার। সঙ্গে আসছে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন তাঁরা।
সূত্রটির দাবি, প্রথম দফার মনোনয়ন পেশ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার ছাতার তলায় চলে আসবে সংশ্লিষ্ট এলাকা। পরে ধাপে ধাপে মোট ১২৫ কোম্পানি বাহিনী চলে আসবে রাজে্য। এর মধে্য ১৫ কোম্পানি বাহিনীকে রেখে দেওয়া হবে ‘স্ট্রং রুম’ ও গণনা পর্বের নিরাপত্তার জন্য। এবার বুথ সুরক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর। জেলা প্রশাসনগুলিকেও সেকথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত বুথ ও বুথের আশপাশের ১০০ মিটারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এক্ষেত্রে ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবারও তাইই থাকছে। সূত্রের খবর, যেসব নির্বাচনী কেন্দ্রে একটি মাত্র বুথ রয়েছে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে দু’জন আধাসেনা মোতায়েন রাখা হবে। দু’টি বুথ রয়েছে এমন কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে তিন জন আধা সেনার জওয়ান। এছাড়ও যেসব ভোট কেন্দ্রে দুয়ের অধিক বুথ থাকবে সেখানে সর্বোচ্চ পাঁচ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান থাকবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে। ১৮ মার্চ মনোনয়ন পেশ শুরুর দিন বা তার আগে প্রথম দফায় ঢুকবে কয়েক কোম্পানি বাহিনী। মনোনয়ন পর্ব মসৃণ করতে তাদের ব্যবহার করা হবে। এরপর ৩ মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে রাজে্য চলে আসবে মোট ১২৫ কোম্পানি। শুধু ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বেই নয়। ঠিক হয়েছে এরিয়া পেট্রলিং ও ফ্লাইং স্কোয়াড হিসাবে প্রতিটি বিধানসভা পিছু এক কোম্পানি বাহিনী ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতিটি দফার জন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা একই থাকবে। যেসব কেন্দ্রে ভোট সেখানে সময়মতো পৌঁছে যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে ভোট নিরাপত্তার দায়িত্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেও তাদের ব্যবহার করা হয় না। কারণ তাদের পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন রাজ্যের আধিকারিকরাই। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, এবার তেমনটা হবে না। এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছ থেকেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত লাইভ আপডেট নেবেন কমিশন কর্তারা। সেজন্য যাবতীয় ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি।
[নির্বাচনের আগে সতর্ক প্রশাসন, শহর সীমানায় শুরু ‘নাকা চেকিং’]
‘সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের স্বার্থে’ রাজ্যের প্রতিটি বুথকে স্পর্শকাতর ঘোষণার দাবি তুলেছে বিরোধী পক্ষ। তা ঘিরে শাসক-বিরোধী চাপানউতোরও আপাতত তুঙ্গে। বিরোধীদের দাবি নস্যাৎ করতে ধরনায় বসছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব কমিশনে একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন এবার রাজ্যে ‘বিশেষ’ বা ‘অতি’ স্পর্শকাতর বুথ নেই। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার রাজ্যে ১৮৪৬১টি এলাকা স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। যার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৩৫৭টি বুথ, বীরভূমে ১৫৫৬টি বুথ উত্তেজনাপ্রবণ। এছাড়াও বর্ধমানে ১২৮৯, উত্তর দিনাজপুরে ৬৫৭, মালদহে ১২২০, মুর্শিদাবাদে ১১৯৭, কলকাতায় ৪৫৬, কোচবিহারে ৫০৩টি, হুগলিতে ১০০৮টি ও উত্তর ২৪ পরগনায় ৯৮১টি এলাকা উত্তেজনাপ্রবণ বলে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
[ওয়ার্ডে প্রার্থী হারলে পুরভোটে টিকিট পাবেন না কাউন্সিলররা, বার্তা ফিরহাদের]
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.